তারিখ: রবিবার, ২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:
ফাইল ছবি

বিশেষ প্রতিবেদক::

কক্সবাজারের পর্যটন এলাকার কলাতলীর সৈকত ও সরণ প্লটের অন্তত ২০টি কটেজে রাত-দিন চলছে ইয়াবা ও পতিতার রমরমা ব্যবসা। অভিযোগ ওঠেছে মডেল থানার এক অফিসারকে ম্যানেজ করেই হচ্ছে এই অপকর্ম। তা আবার বীর দর্পে স্বীকারও করেন পুরো কটেজ জোন এলাকার অপকর্ম নিয়ন্ত্রনকারি কটেজ মালিক ডুলাহাজারার মান্নান। তবে তার ক্ষমতা বেশি দুরে নয়। মডেল থানার অপারেশন অফিসার ইয়াছিন পর্যন্ত। যিনি থানার মাসিক মাসোহারা আদায়ের ক্যাশিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে বলে জানায় একটি সূত্র।

কটেজ জোনের নতুন সবুজ কটেজের পরিচালক মান্নান জানান, পতিতা ব্যবসা কোন অপরাধ নয়। অপরাধ হলে পুলিশ অনুমতি দিতনা। পর্যটন এলাকার সবাই করতেছে। আমরা সরণ ও সৈকত এলাকার ১৫/২০টি কটেজে করলে অপরাধ কি? সবাই বন্ধ করলে আমরাও বন্ধ করে দেব। আপনি সাংবাদিক হলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অপারেশন অফিসার ইয়াছিন স্যারের সাথে কথা বলেন। স্যারের বাসায় এখনো গরুর দুধ পাঠিয়েছি। এমন অপকটে কথা গুলো বললেন কটেজ জোন এলাকার প্রশাসন ও নানা অপকর্ম নিয়ন্ত্রক মান্নান। তবে মান্নান দাবী করেন কটেজে কোন ইয়াবার ব্যবসা হয়না। কেউ নিজেরা এনে দরজা বন্ধ করে সেবন করলে আমাদের করার কিছুই নেই।

স্থানীয়দের মতে, কটেজে বর্তমানে কি অপকর্ম হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। রক্ষকরা যদি বক্ষক হয় তাহলে পরিস্থিতি এমনেই হওয়ার কথা। তারা আরো জানান, পর্যটন এলাকার কটেজ মালিক কিংবা ম্যানেজাররা যদি ঠিকমত মাসোহারা পরিশোধ না করলে অভিযান চালিয়ে পতিতা-খদ্দের ও ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ এবং প্রতিবারে মামলাও হয় চোখে পড়ার মত। যদি মাসোহারা ঠিক থাকে তাহলে ওকি মারতেও আসেনা।

জানাযায়, কক্সবাজার কলাতলীর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে সৈকত এবং সরণ প্লটের কটেজ গুলিতে প্রতিনিয়ত চলছে নানা অপকর্ম। রাত-দিন চোর, ছিনতাইকারি, ইয়াবা ও পতিতা ব্যবসায়িসহ নানা অপরাধীদের অভায়রণ্যে পরিণত হয় কটেজ জোন। পাশাপাশি পর্যটকদের নানা প্রলোভনে পেলে হাতিয়ে নেয় নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। অন্তত ২০টি কটেজ রয়েছে, যেখানে এক একটিতে নুন্যতম ১০ থেকে শুরু করে ৩০ জন পর্যন্ত পতিতা, খদ্দের ও ইয়াবা সেবনকারি থাকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই কটেজ গুলির সামনে দিয়ে কোন ভাল মানুষ বা ভাল পরিবারের ছেলে মেয়ে হেটে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সূত্র জানায়, প্রশাসনের ছত্রছায়ায় মাসিক মাসোহারা দিয়ে কটেজ ম্যানেজার, ভাড়াটিয়া মালিকরা প্রকাশ্যে অপকর্ম কযে যাচ্ছে। যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা। হাতে টোকেন দিয়ে খদ্দেরের কাছে পতিতা ও ইয়াবা সরবরাহ হয়। বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা আইয়ামে জাহেলিয়া যুগকে হার মানাবে।

সূত্র আরো জানায়, যে সমস্ত কটেজে এই অপকর্ম গুলি হচ্ছে তৎমধ্যে রয়েছে পুলিশের মাসোহারা আদায়কারি মান্নানের পরিচালনাধীন নতুন সবুজ কটেজ, ইসমাইলের আমির ডীম কটেজ, আসিফের ঢাকার বাড়ী-২, ইয়াবা ও মানবপাচার মামলার আসামী মিজান ও সোহেল দুই ভাইয়ের সী-ফ্লাউয়ার ও শাহেনা কটেজ, মানবপাচার মামলায় জেলে থাকা শহীদের শারমিন কটেজ, কবিরের সী-ল্যান্ড কটেজ, জাব্বারের ঢাকার বাড়ী, জয়নালের পরিচালনাধীন সাজ্জাদ ইলেকট্রনিকের কটেজ, ইয়াবার মামলায় জেলে থাকা নাছিরের ভাইয়ের পরিচালনাধীন দারুল ইহসান কটেজ, শাহাব উদ্দিনের রাজিউন কটেজ, জাহাঙ্গীরের পরিচালনাধীন শাকিল কটেজ, লালুর সী-গ্রীন, মোঃ সোহানের সোহান কটেজ, দিদারের মেঘালয় কটেজ ও বর্তমানে ইয়াবার মামলায় জেলে থাকা আরমানের রিসান কটেজ।

এদিকে খদ্দের সেজে সাইফুল (ছদ্দনাম) নামে এক ব্যক্তি পতিতা চেয়ে ১৬ জুলাই রাতে পতিতা ব্যবসায়ি মান্নানকে ফোন দেন। ওই সময় মান্নান সাইফুলকে বলেন, আপনারা কয় জন আছেন? উত্তরে সাইফুল বলেন ৭/৮ জন। মান্নান বলেন কোন সমস্যা নেই চলে আসেন। সাইফুল পুলিশের ডিসট্রাবের কথা বললে মান্নান অতি উৎসাহের সহিত বলেন, পুলিশ কটেজের সামনে বসে নিরাপত্তা দেবে। এতটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারব। আপনারা আসেন কোন সমস্যা নেই। এখানে সকল কটেজ আমার(মান্নান) নিয়ন্ত্রনে চলে। সদর থানার অপারেশন অফিসার ইয়াছিন স্যারের সাথে সমঝোতা আছে।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে মডেল থানার অপারেশন অফিসার ইয়াছিন ১৫/১৬টি কটেজ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করেছে। পাশাপাশি প্রতি কটেজে থেকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা করে মাসোহারা আদায়ের জন্য মান্নানের সাথে সমঝোতা করেছে বলে জানান সূত্রটি।

সূত্র মতে, সম্প্রতি কটেজ জোনে পুলিশের অভিযান হলেও বিগত কয়েক বছরে শীর্ষ পতিতা ব্যবসার আরত হিসেবে খ্যাত আমির ডীম কটেজ, নতুন সবুজ কটেজ, ঢাকার বাড়ী-২ কটেজ, ঢাকার বাড়ী কটেজসহ সী-ল্যান্ড কটেজ গুলিতে পুলিশের ওকিও পড়েনি। কারন মান্নান সব কটেজের দায়িত্ব নিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রেখেছে।

কক্সবাজার মডেল থানার অপারেশন অফিসার ইয়াছিন জানান, টাকা আদায়ের কথা সত্য নয়। তাছাড়া মাসিক মাসোহারা আদায়ের কথাও মিথ্যা। আমি (ইয়াছিন) মান্নান নামের কাউকে চিনিনা। সম্প্রতি অভিযানের ব্যাপারে কটেজ জোনে একবার গিয়েছিলাম। সেখানে তেমন কারো সাথে পরিচয় হয়নি।

এদিকে কটেজ জোনে পতিতা ও ইয়াবা সেবনসহ নানা অপকর্মের ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ ইকবাল হোসেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। পাশাপাশি তিনি অপারেশন অফিসার ইয়াছিনের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::