শিরোনাম ::
সামাজিক সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত উখিয়ার রাজা পালং মাদ্রসা দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নানা অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠিত মুক্তি কক্সবাজারের উদ্যোগে উখিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডশিপের প্রশিক্ষণে চ্যাম্পিয়ন ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের নারী ফুটবল টিমকে সংবর্ধনা উখিয়ায় মাদক প্রতিরোধ ও অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত একসঙ্গে ৪ সন্তান জন্ম দিলেন মহেশখালীর এক গৃহবধূ! বান্দরবানের দুর্গম অঞ্চলে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য উদ্বোধন শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্রের বান্দরবান দুই শতাধিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উখিয়ায় পালস’র উদ্যোগে বিশ্ব শান্তি দিবস পালিত সীমান্তে গুলির শব্দ থামছে না
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..

কক্সবাজারে তুষের আগুনে ঘি ঢাললেন ইশরাক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২২

কক্সবাজার শহরে একই স্থানে বিএনপি ও যুবলীগ সমাবেশ ডাকায় রোববার সন্ধ্যা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল জেলা প্রশাসন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে

যাওয়ার সুযোগের দাবিতে সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভার ডাক দেয়। একই সময়ে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে সমাবেশ আহ্বান করে জেলা যুবলীগ। জেলা বিএনপি কার্যালয় এবং শহীদ মিনার

পাশাপাশি স্থানে অবস্থিত হওয়ায় পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকাকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার আশঙ্কায় রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহরের শহীদ সরণি ও আশপাশের এলাকায় ১৪8 ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

বিএনপি কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক হুইপ শাহা জাহান চৌধুরী বলেন, “দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে দলের পক্ষ থেকে কক্সবাজারে একটি মহাসমাবেশ করার জন্য কক্সবাজার ঈদগাঁও ময়দান, কক্সবাজার মুক্তিযোদ্ধা মাঠ ও শহীদ দৌলত ময়দানের যেকোন একটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসন বরাবরে আবেদন করা হয়। প্রশাসন সে সময় মুক্তিযোদ্ধা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি দিলেও দুদিন পর সমাবেে শর আয়োজন করতে নিষেধ করে। পরে স্থান পরিবর্তন করে শহীদ স্মরণীর জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তা প্রশাসনকে জানানো হয়। কক্সবাজার শহর ছাত্রদলের সভাপতি হুমায়ন কবির হিমু বলেন, “রোববার সকাল থেকে মহা সমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করা হয়। এ সময় হঠাৎ জানাতে পারি, জেলা বিএনপি অফিস সংলগ্ন জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আওয়ামী যুবলীগ একটি সমাবেশ ডেকেছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন সোমবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত বিএনপি অফিস এবং শহীদ মিনার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।” “হাজার হাজার নেতা-কর্মীর প্রচণ্ড চাপ ছিলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সেখানে মহাসমাবেশ করার। কিন্তু আমরা অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোন স্থানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিই। পরে প্রায় এক ঘণ্টার মত একটি সমাবেশ করি।” কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) মো. আবু সুফিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, “প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিএনপি পূর্বনির্ধারিত স্থানে সমাবেশ করেনি। তবে তারা (বিএনপি) সেখানে কিছুটা দূরে ঈদগাঁও ময়দানে সমাবেশের জন্য জড়ো হয়েছে খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারাসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। পরে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসন বিএনপি নেতাদের সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করার কথা জানালে তারা সেখান থেকে সরে যান।” জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি বিএনপি কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বিশেষ অতিথি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। নজরুল ইসলাম খান সরকারের নিন্দা করে বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান সরকারের হাতে ভোট, গণতন্ত্র, দেশ ও জনগণ কোন কিছুই আর নিরাপদ নয়। সু-চিকিৎসার অভাবে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার জীবন আজকে বিপন্ন। তাকে বন্দি রেখে মৃত্যুর দিকে টেলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা সরকারের এ আচরণে তীব্র ঘৃণা জানাচ্ছি।” ঈদগাঁও ময়দানে সমাবেশ হবে দায়িত্বশীল নেতাদের কাছ থেকে এমন বার্তা পেয়ে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী কনকনে শীত উপেক্ষা করে ভোর সকাল থেকে সেখানে জমায়েত হতে থাকেন। সকাল ৯টার দিকে ঈদগাঁও ময়দানে কয়েক হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী জড়ো হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছান সকাল সাড়ে ১০টায়। এ সময় সেখানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, কক্সবাজার সদর আসনের সাবেক সাংসদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না অবস্থান করছিলেন। সমাবেশে কেন্দ্রীয় দুই নেতা ১০/১৫ মিনিট বক্তব্য রাখার এক পর্যায়ে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। এ সময় বিএনপি নেতারা সমাবেশস্থল থেকে সরে হোটেল লংবিচে চলে যান। এদিকে সমাবেশে যোগ দেয়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা মনের খোরাক মেটানোর চেষ্টার করেও ব্যার্থ হলে আশার প্রদীপ জ্বালান ইশরাক। ইশরাক আসছে এই খবর পাওয়ার সাথে সাথে নেতাকর্মীদের মাঝে আলাদা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। লংবিচ হোটেলের সামনে জড়ো হতে থাকে বিএনপির সমর্থকরা। দুপুরের শেষলগ্নে হোটেল থেকে ইশরাক বের হলেই স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় কলাতলির প্রধান সড়ক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কক্সবাজার বিএনপি মহাসমাবেশের ডাক দিলেও দৃশ্যমান তেমন লোক সমাগম করতে পারেনি, কিন্তু ইশরাকের উপস্থিতির খবর পেয়ে কলাতলির প্রধান সড়কের মানুষের ঢল নামে। তাছাড়া ইশরাককে এক নজর দেখার জন্য আশেপাশের হোটেলের বারান্দায় চলে আসেন অনেক পর্যটক। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আন্দোলন কে বেগবান রাখতে এবং যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ।


আরো খবর: