শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে এলপি ও টোটাল গ্যাস বিক্রি : পদে পদে ঠকছেন ক্রেতারা

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ৭, ২০১৮ ৩:১১ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ৭, ২০১৮ ৩:১১ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারে এলপি ও টোটাল গ্যাস বিক্রিতে অনিয়মের শেষ নেই। একদিকে যেমন ওজনে ঠকানো হচ্ছে, তেমনি অপরদিকে ব্যবসায়ীদের ইচ্ছামতে একেক স্থানে একেক রকম দামে বিক্রি করা হচ্ছে গ্যাস। এরফলে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।

এবার এলপি ও টোটাল গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে ১২ কেজি ও সাড়ে ১২ কেজি ওজনের গ্যাস সিলিন্ডারগুলো সর্বোচ্চ ৯৫০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পবিত্র রমজানে পণ্য বিক্রি থেকে শুরু করে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও বিভিন্নস্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় এলপি গ্যাস পরিবেশকদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জানা গেছে, কক্সবাজারে বর্তমানে গ্যাস ব্যবহারকারি রয়েছে ৫০ হাজারেও বেশি। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সুযোগ বুঝে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। একেক স্থানে একেক দামে এলপি ও টোটাল গ্যাস বিক্রি হওয়ায় বিপাকে পড়ছে ক্রেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরে বর্তমানে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে। যদিও এই গ্যাসের সরকারের নির্ধারিত মূল্য ৭৫০ টাকা।

সোমবার সকালে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছেন মোহাজেরপাড়া এলাকার সুজা উদ্দিন রুবেল। তিনি বলেন, ওই গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নিয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা। প্রশাসন বিভিন্ন সময় দর-দাম ঠিক করে দেয়, কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেই নির্দেশনা মানেন না।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অনুষ্ঠিত সভায় কক্সবাজার এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাদের সমিতির আওতাভুক্ত ব্যবসায়ী রয়েছে ৩৭ জন। এর বাইরে আরও প্রায় ৫০টি গ্যাস বিক্রয়ের দোকান রয়েছে। সেগুলো লাইসেন্সভুক্ত নয়। তাদের সমিতির আওতাভুক্ত ব্যবসায়ীরা এলপি গ্যাস সর্বোচ্চ ৯৫০ টাকা বিক্রি করে। কিন্তু সমিতির বাইরের ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ কারণে ঢালাওভাবে বদনাম হচ্ছে। তাদের (লাইসেন্সবিহীন) বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। রমজান উপলক্ষে কক্সবাজারে পদ্মা ও যমুনা গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে।

অভিযোগ রয়েছে, এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির সদস্যরাও ১ হাজার থেকে ১১’শ টাকা পর্যন্ত সিলিন্ডার প্রতি হাতিয়ে নিচ্ছে ক্রেতাদের কাছ থেকে।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছে, যারা বড় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে খুলে ৩ থেকে ৪টি ছোট গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি করে। যার ফলে গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছে। এছাড়াও গ্যাস সিলিন্ডার খোলার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও সৃষ্টি হয়। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, এলপি গ্যাস নিয়ে এতদিন যা হওয়ার হয়েছে, কিন্তু এখন থেকে আর নয়। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে সর্বোচ্চ ৯৫০ টাকার মধ্যে এলপি ও টোটাল গ্যাস বিক্রি করতে হবে। এটি মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি টিম মাঠে থাকবে। যদি কোন নয়ছয় হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::