শিরোনাম :
পেকুয়ায় গরুর খামার ও মুরগীর ফার্মে বিদ্যুৎ ষ্পৃষ্ঠে দুই যুবকের মৃত্যু মহেশখালীতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষকসহ আটক-২ রামুতে পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষণ মামলার আসামী পুলিশের হাতে আটক সিনহা হত্যায় জড়িত নয় ওসি প্রদীপ, দাবি আইনজীবীর চকরিয়ায় মহাসড়কে ইজিবাইক উল্টে গৃহবধুর মৃত্যু নাফ নদের চর হতে আরও এক শিশুর লাশ উদ্ধার উখিয়ায় ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা নারী আটক উখিয়ায় ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ চার মাদক কারবারি আটক: সিএনজি ও মোটরসাইকেল জব্দ চকরিয়ায় সব পর্যটন স্পট কমিনিউটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে দুইদফায় স্থগিত হলো চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচন হতাশায় ভোটার, খরচের খাতা দীর্ঘ হচ্ছে প্রার্থীদের!
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ১০:২৯ অপরাহ্ন
ঘোষণা:
কক্সবাজার পোস্টে আপনাকে স্বাগতম, আমাদের সাথে থাকুন,কক্সবাজারকে জানুন......

কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প আবারো চাঙ্গা

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ২৮, ২০১৮ ১০:২৪ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ২৮, ২০১৮ ১০:২৪ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার পোস্ট ডটকম ::
সমুদ্রের সফেন ঊর্মিমালা আর পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য একসাথে উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে কক্সবাজার আসতেই হবে। এর মাঝে যদি সুযোগ এসে যায় লম্বা কোনো ছুটির, তাহলে তো কথাই নেই। ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে মওসুমের শেষ সুযোগই এনে দিয়েছে ৯ দিনের একটানা ছুটি। তাই এই ছুটি উপভোগ করতে পর্যটকের স্রোত এখন কক্সবাজার অভিমুখে। সমুদ্রের বিশাল বালিয়াড়ি থেকে শুরু করে মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত সবখানেই পর্যটকমুখর পরিবেশ। বিশেষ করে গতকাল বিকেলে পর্যটকের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। একটানা ছুটির কারণে কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ঠাঁই নেই অবস্থা। তারকা হোটেল থেকে শুরু করে সাধারণ হোটেল-মোটেলেও কক্ষ খালি নেই। বিশেষ করে শুক্রবার শনিবার ফুল বুকড থাকছে। তারকা হোটেল লং বিচের হেড অব অপারেশন মোহাম্মদ তারেক জানান, শুক্রবার ও শনিবার তাদের হোটেলের কোনো কক্ষ খালি নেই, এ ছাড়া অন্য দিনেও প্রায় অর্ধেক বুকিং রয়েছে। তারকা হোটেল সি গালের প্রধান নির্বাহী ইমরুল ছিদ্দিকী রুমি জানান, টানা ৯ দিনের ছুটিতে তার হোটেলের ৯৫ ভাগ কক্ষ বুক হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ ভাগ বিদেশী। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশী সংস্থার হয়ে কাজ করছেন এসব বিদেশী। কক্সবাজারে ইনানী সৈকতের কাছে প্যাঁচার দ্বীপ এলাকায় মারমেড ইকো রিসোর্ট ও বিচ রিসোর্টের ভাড়া ৭ হাজার থেকে ৮৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।

মারমেডের মহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, তাদের রিসোর্ট এখন প্রায় পূর্ণ। এ ছাড়া অন্য সময়েও তাদের হোটেল ভরপুর থাকে দেশী-বিদেশী পর্যটকে। তিনি বলেন, শহর থেকে একটু দূরে একেবারে প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা মারমেড ইকো রিসোর্টের নিজস্ব অনলাইন মার্কেটিংয়ের কারণে সারা বছরই বিদেশী পর্যটক থাকেন তাদের হোটেলে। এ দিকে পর্যটন করপোরেশন বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য বারবার পর্যটনবর্ষ ঘোষণার পরও তেমন সফলতা পাননি, কিন্তু ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রোহিঙ্গা আগমনের পর থেকে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক বিদেশী হোটেল-মোটেলে অবস্থান করে কাজ করছেন। কক্সবাজার হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিদেশী পর্যটক ঘুরেফিরে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। এ কারণে বিদেশী পর্যটনও (ওভারসিজ ট্যুরিজম) এখন বেশ চাঙ্গা। আবাসিক হোটেলের পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন খাবার দোকনেও বেচাবিক্রি খুবই ভালো। বার্মিজ শপিং সেন্টারগুলোতেও চলছে রমরমা বাণিজ্য। কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি মোস্তাক আহমদ জানান, ৯ দিনের টানা ছুটিতে কক্সবাজার এখন পর্যটকে ভরপুর। সে কারণে সবখানে বেচাকেনা বেশি। বিশেষ করে খাবারের দোকানগুলোতে বেশি ভিড়। শহরের অভিজাত রেস্টুরেন্ট পউসী, ঝাউবন, রান্নাঘর, নিরিবিলি, ডায়মন্ডে শুক্রবার দুপুরে খাবার খেতে দীর্ঘ লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো। অপর দিকে কক্সবাজার অভিমুখী এবং কক্সবাজার থেকে ফিরতি বিভিন্ন পরিবহনের সিটও আগেভাগে বিক্রি হয়ে গেছে।

পর্যটকেরা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ঘুরে মেরিন ড্রাইভ হয়ে যাচ্ছেন টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে। এপ্রিল মাসে পর্যটকেরা সেন্টমর্টিন দ্বীপ ভ্রমণ কম করলেও টানা ৯ দিনের ছুটিতে শত শত পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণও সেরে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কেয়ারি টুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের এজিএম শফি মোহাম্মদ আবু নোমান। তিনি জানান, বর্তমানে পর্যটনের অফ সিজন। ৯ দিনের ছুটিতে অনেক পর্যটক যাচ্ছেন সেন্টমার্টিনে। তাই প্রতিদিনই তাদের জাহাজ কেয়ারি সিন্দবাদ চলাচল করবে টেকনাফ সেন্টমার্টিন রুটে এবং তা অব্যাহত থাকবে ১৪ মে পর্যন্ত।
অপর দিকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও লাখ লাখ রোহিঙ্গার কক্সবাজারে অবস্থানের ফলে নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।
মাছ-গোশত থেকে শুরু করে প্রায় সব পণ্যই এখন স্থানীয়দের ক্রয়সীমার বাইরে। সব যাচ্ছে হোটেল-রেস্টুরেন্টে। দাম যতই হোক রেস্টুরেন্ট মালিকরাই কিনে নিচ্ছেন চোখ বন্ধ করে। এর ফলে শহরের স্থানীয় মানুষ ভীষণ কষ্টের মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরীর মতে, বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর খাবার জোগান দিতে গিয়ে স্থানীয়রা সাফার করবেন এটা হতে পারে না। তার মতে, পর্যটন এমন হওয়া উচিত যেন স্থানীয়রা কষ্টের মধ্যে না পড়েন।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::