মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২১ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের ঝরে পড়া যুবাদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুনলেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ ২:২২ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ ২:২২ পূর্বাহ্ণ

নবম শ্রেনীতে পড়ার সময় শারমিন আক্তারের (১৮) বাবা-মা তার লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে সে বাসায় থাকতো।

সাম্প্রতিককালে সে সেভ দ্য চিলড্রেনের এডুকেশন ফর ইয়থ এমপাওয়ারমেন্ট (ইওয়াইই) প্রোগ্রামের আওতায় বিউটিকেয়ার কোর্সের উপর তিন মাসের প্রশিক্ষণ নেয় এবং বর্তমানে সে মাসে সাত হাজার টাকা করে আয় করছে যা তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করছে।

শারমিন আক্তারের মা এখন অনেক খুশি, কারণ তিনি বরাবরই চাইতেন যে তার মেয়ে যেন স্বনির্ভর হয়। তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

এখন শারমিন আক্তার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যাতে সে তার মত প্রশিক্ষণ পাওয়া অন্যান্য মেয়েদের নিয়ে একটি বিউটি পার্লার খুলতে পারে।

শারমিনের মত এমন ঝরে পড়া আরো অনেক যুবার কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ঘুরে দাড়ানোর গল্প শুনে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেম্বন।

সেভ দ্য চিলড্রেনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজু টেইলার্স নামের একটি কর্মক্ষেত্র পরিদর্শন করেন তিনি, যেখানে রামু ও কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে (মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, হাউজ ওয়্যারিং, আইটি সেন্টার) কর্মরত কিশোরকিশোরীরা অংশগ্রহণ করে।

এসব কিশোরকিশোরীদের সাথে কথা বলার সময় মার্সি মিয়াং টেম্বন বলেন, “তোমরা যারা বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার পরেও পুনরাও শিখতে আগ্রহী হয়েছ তারা আসলেই সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী। বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার যুবাদের জন্যও তোমরা অনুসরণীয়”।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন রস্ক ফেইজ-২ প্রকল্প প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিশ্বব্যাঙ্কের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া নগর শিশুদের জন্য ১০টি সিটি করপোরেশনে রস্ক আনন্দ স্কুল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে যার মাধ্যমে সারা দেশের ৫৪টি উপজেলায় ১৩৯০০ কিশোরকিশোরীদের বাজার চাহিদাভিত্তিক বৃত্তিমূলক কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

এছাড়া কয়েক বছর আগে মায়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর আগমনে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কক্সবাজার জেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠী।

এদের সহায়তা ও উন্নয়নের কথা চিন্তা করে কক্সবাজারের ৮টি উপজেলা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ইতোমধ্যে ৩৫০০ শিক্ষার্থীকে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

এসময় বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সৈয়দ রাশেদ আল জায়েদ শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন যাতে তারা তাদের এই কারিগরি জ্ঞানকে আরো বড় পরিসরে কাজে লাগাতে পারে।

রিচিং আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) ফেইজ-২ প্রকল্পের পরিচালক, মাহবুব হাসান শাহীন, এসময় এই শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের ঋণ প্রদানকারী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেন, এবং এতে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হলে তিনি নিজে তদারকি করবেন বলেও আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক মাহিন নেওয়াজ চৌধুরি এবং রস্ক প্রকল্প পরিচালক কাজী সুলতান আহমেদ।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::