শিরোনাম :
জেলে পরিবারে চলছে নিরব দুর্ভিক্ষ কুতুবদিয়া থানার নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করলেন ওমর হায়দার কক্সবাজারে বৃহস্পতিবার ৫৯ জনের করোনা শনাক্ত কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেয়ায় ৩ পুলিশ পরিদর্শকসহ ১৭ জনের নামে মামলা সৌদিতে কারগাড়ির চাপায় চকরিয়ার যুবক নিহত, বাড়িতে শোকের মাতম চকরিয়ায় যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে টমটম চালক খুন জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝির অবশান, শেষে চকরিয়ায় এমপি জাফর ও লিটুকে গণসংবর্ধনা চকরিয়ায় বনের উপর নির্ভশীল ভিসিএফ সদস্যদের মধ্যে ক্ষুদ্র মূলধনের ২২ লক্ষ টাকা অনুদান বিতরণ টেকনাফে মাদক কারবারীর বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা আটক চকরিয়ায় ২ হাজার ৪শ ইয়াবাসহ পাচারকারী ৩ নারী আটক
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
কক্সবাজার পোস্টে আপনাকে স্বাগতম, আমাদের সাথে থাকুন,কক্সবাজারকে জানুন......

কক্সবাজারের এলএনজি নিয়ে নতুন স্বপ্ন শিল্প খাতে

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ২৪, ২০১৮ ৭:১৬ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ২৪, ২০১৮ ৭:১৬ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার পোস্ট ডটকম ::
অবশেষে ২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে বহু কাঙ্ক্ষিত এলএনজিসহ গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ জাহাজটি এসে পৌঁছেছে। এটা আসলে একটি টার্মিনাল। এখানে আমদানি করা এলএনজি বা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রূপান্তর করে প্রাকৃতিক গ্যাসে পরিণত করা হবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে তা সারাদেশে সরবরাহ করা হবে।

এটা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুখবর। বহুকাল ধরেই দেশের বিদ্যুৎসহ বহু শিল্পকারখানা গ্যাসের অভাবে অচল। এখন এগুলো সচল হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

বিশ্নেষকরা মনে করছেন, গ্যাসের ঘাটতি অনেকাংশেই পূরণ হবে। তবে গ্যাসের দাম দিতে হবে বেশি। এটা নিয়ে শিল্পপতিরা বেশ শঙ্কায় আছেন। তবে জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী বীরবিক্রম নিশ্চিত করেছেন, সহনীয় হারে গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে।

চট্টগ্রামে অবস্থানরত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ জাহাজটি বঙ্গোপসাগরের টার্মিনালের জন্য নির্ধারিত স্থানে এসে পৌঁছেছে। ২৯ এপ্রিল জ্বালানি বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম যাবে। তারা গ্রাহক পর্যায়ে এলএনজি সরবরাহের আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করবেন।

আশা করা হচ্ছে, আগামী মাসের মাঝামাঝি গ্রাহকরা আমদানি করা এই গ্যাস ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৩৫০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ করা হয় ২৭০ কোটি ঘনফুট। ৮০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি।

মহেশখালীতে মে মাস থেকেই পাওয়ার কথা ৫০ কোটি ঘনফুট, অর্থাৎ ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ বছরের শেষ দিকে আরও ৫০ কোটি ঘনফুট আমদানি করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এরপর চাহিদা অনুযায়ী আরও আমদানি করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে সংযোগের অপেক্ষায় থাকা শিল্প উদ্যোক্তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। অনেক শিল্পমালিক কারখানার যন্ত্রপাতি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন। বিদ্যুতেও গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তবে আমদানি মূল্য বেশি বলে গ্যাসের জন্য গ্রাহককে বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এরই মধ্যে গ্যাসের দাম ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো।

জানতে চাইলে এলএনজি আমদানি প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানকারী রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি আরপিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, এলএনজি দিয়ে প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা মেটানো হবে। পরে ঢাকাসহ দেশের অন্য অঞ্চলে এই গ্যাস দেওয়া হবে।

গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ২০১০ সালে সরকার এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয়। এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে ২০১৬ সালে দেশের প্রথম সমুদ্রে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে চুক্তি হয়। আট বছরের মাথায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

প্রথমে গ্যাস পাবে চট্টগ্রাম :

জানা গেছে, দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহের জন্য চুক্তি হলেও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হবে জাতীয় গ্রিডে। এখন চট্টগ্রামের গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ করা হয় ২০ কোটি ঘনফুট।

এদিকে, এলএনজি আমদানিকে ঘিরে নতুন কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্যাস বিতরণ কোম্পানি কর্ণফুলী। এরই মধ্যে তারা ২৬৫টি নতুন কারখানার ডিমান্ড নোট ইস্যু করেছে। এদের মধ্যে ৭১টি প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করেছে। আরও ৩৫৬টি শিল্পের আবেদন অনুমোদনের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরের শেষ নাগাদ চট্টগ্রামের চাহিদা ৪৫ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাবে বলে আশা করছে কর্ণফুলী কর্তৃপক্ষ।

কর্ণফুলীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মো. আল মামুন বলেন, এলএনজি এলে চট্টগ্রামের গ্যাসের ঘাটতি দূর হবে। নতুন নতুন কারখানায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব হবে।

ইতিবাচক প্রভাব পড়বে ঢাকা ও কুমিল্লায় :

প্রথম পর্যায়ে এলএনজি চট্টগ্রাম অঞ্চলে দেওয়া হবে। পরে পাইপলাইন নির্মাণ শেষ হলে তা ঢাকাসহ দেশের অন্য অঞ্চলেও দেওয়া হবে। কারণ, এখন জাতীয় গ্রিড থেকে গড়ে ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস চট্টগ্রামে দেওয়া হচ্ছে। এলএনজি আসার ফলে চট্টগ্রামে দেশি গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হবে। দেশি গ্যাস বাখরাবাদ ও তিতাস বিতরণ কোম্পানির নেটওয়ার্কে দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মসিউর রহমান বলেন, এলএনজি না পেলেও তার সুবিধা পাব আমরা। এখন যে গ্যাস কর্ণফুলীকে দেওয়া হচ্ছে, এলএনজি আসার পর তার একটি বড় অংশ তিতাসকে দেওয়া হবে। কিছু অংশ পাবে বাখরাবাদও। ফলে ঢাকার, বিশেষ করে গাজীপুর-সাভারের শিল্পের গ্যাস সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। সুবিধা ভোগ করবেন কুমিল্লার গ্রাহকরাও।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::

সর্বশেষ