রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১৩ অপরাহ্ন

এখনো মিয়ানমার থেকে আসছে ইয়াবা

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: জুন ২৮, ২০১৮ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: জুন ২৮, ২০১৮ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

এখনো বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে আসছে নাফনদী ও সাগরপথে ইয়াবার চালান। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইয়াবা প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালালেও এটি বন্ধ হচ্ছে না। এর মধ্যে চলতি মাসে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির সদস্যরা দেড় লাখের বেশি ইয়াবা জব্দ করতে পারলেও অন্য কোনো আইন প্রযোগকারী সংস্থা কোনো ইয়াবা জব্দ করতে পারেনি।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের (জানুয়ারী থেকে মে মাস) এ পাঁচ মাসে ১ কোটি ৭২ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ ২ বিজিবির উপঅধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন, সীমান্তে বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কঠোর ভাবে জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন। এতে করে ইয়াবার চালানও জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসে দুইজন পাচারকারীসহ ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। যাহা অন্য মাসের তুলনায় অনেকাংশে কম।
গত ২৫ মে সাবরাং ইউপির সদস্য আক্তার কামাল ও ২৭ মে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর ও সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. একরামুল হক বিশেষ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে দুজনসহ টেকনাফের চারজন ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
জানা যায়, টেকনাফকে ইয়াবার ট্রানজিট বলা হলেও এসব ইয়াবার চালান সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। রাজধানীতে প্রতিটি ইয়াবার বেশি দামে বিক্রি হলেও টেকনাফে তা কম দামেই মিলছে। মাদক ব্যবসায়ীরা টেকনাফে এসে এসব মাদক নিয়ে যাচ্ছেন। পান-সুপারি-লবণবোঝাই ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ইয়াবা পাচার হচ্ছে। সীমান্তের নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে প্রতিদিন ছোট-বড় ইয়াবার চালান ধরা পড়ছে। তবে মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মাদক পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশে ইয়াবার চাহিদা বাড়ছে। শুধুমাত্র এ দেশে চোরাই পথে পাচারের জন্য মিয়ানমারের সীমান্তর্বতী এলাকায় স্থাপিত হয়েছে ৩৭ টি কারখানা। মিয়ানমারের ৮ সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে এ ৩৭ টি কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। মিয়ানমার ভিত্তিক ১০ জন ডিলার ওই সব কারখানায় তৈরী করা প্রতিদিন গড়ে ৩০ লাখের বেশি ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছে টেকনাফের ডিলারের কাছে। ২০১০ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে আর্ন্তজাতিক মাদক পাচারের সংগঠন “ইউনাইটেড ওয়া স্টে-ইট আর্মি” এর অধিনে ৪ টি ইয়াবা তৈরীর কারখানা পরিচালিত হয় বলে জানানো হলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ টি।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড ওয়া স্টে-ইট আর্মির অধিনে বর্তমানে ১৩টি, কাসির ডিপ্ন্যাস আর্মির অধিনে ১০টি, পানসে ক্যা-ম্যা ইয়ন মলিয়ান গ্রুপের অধিনে ২ টি, পুলিশ এক্স হলি ট্রেক গ্রুপের অধিনে ১ টি, ম্যানটাং মিলেটিয়ার অধিনে ৩ টি, ইয়ানজু গ্রুপের অধিনে ১ টি, এসএনপিএলর অধিনে ৬ টি, এমএনডিএএর অধিনে ১ টি ইয়াবা তৈরীর কারখানা পরিচালিত হচ্ছে।
মিয়ানমারের একটি সূত্র বলছে, মিয়ানমারের এ ৮ সংগঠনে নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত ৩৭ ইয়াবা কারখানায় ১৩ প্রকার ইয়াবা তৈরী হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ লাখের বেশি ইয়াবা তৈরী করে তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইয়াবা সহ এস ওয়াই, জিপি, এনওয়াই, ডব্লিউ ওয়াই, গোল্ডেন, আর ২, আর ৭। ইয়াবা বাংলাদেশে পৌঁছে দেয়ার জন্য রয়েছে মিয়ানমারের নির্ধারিত ১০ জন এজেন্ট। এরমধ্যে ৪ জনকে শনাক্ত করেছে আইন প্রয়োগকারি সংস্থা।
টেকনাফ থানার ওসি রনজিত কুমার বড়–য়া বলেন, এখনো ইয়াবার চালান পাচার হয়ে আসছে। তবে স্থলপথে ইয়াবাসহ পাচারকারীকে আটক করছে পুলিশ। নাফনদী ও সাগরে অভিযান চালানোর নৌযান পুলিশের নেই। তবে আগের চেয়ে ইয়াবা পাচার অনেক কমে গেছে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::