তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

সাগরে মাছ ধরার উপর সরকারের দেয়া বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে পেটের তাগিদে মাছ ধরতে সমুদ্র পাড়ি দেয় মনির মাঝি ও জুয়েল। একইভাবে তাদের সাথে নৌকায় ছিল আরো ১৫ জন গরীব জেলে। সমুদ্রে উত্তাল ঢেউ আর ঝড়ো বৃষ্টি কবলে পড়ে নৌকাটি বিধ্বস্ত হয়। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেলেও ৯ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। শুধু বেঁচে ফিরেছে ২ জন। যা ৪ দিন ৩ রাত যুদ্ধ করেছে সাগরের সাথে।

কিভাবে তারা সাগরে উত্তাল পানির সাথে লড়াই করে বেঁচে ফিরেছেন তা নিজেরাই এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। সমুদ্রের সাথে লড়াই করে বেঁচে যাওয়া ভাগ্যবান দুই জন হচ্ছেন, মনির মাঝি , পিতা- মুগুল সর্দার অন্যজন হচ্ছেন মো: জুয়েল, পিতা- ওয়াজ উদ্দিন ফিটার। দুই জনই হচ্ছেন ভোলার চরফেশনের পূর্ব মাদ্রাজ পাড়ার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে মনির মাঝি হচ্ছেন এই ট্রলারের মাঝি আর মো: জুয়েল হচ্ছেন ট্রলারের মালিকের ছেলে।

তারা জানান, গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ভোলা চরফেশনের শামরাজ ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে পাড়ি দেয়। তারা মোট ১৭ জন এই ট্রলারে ছিলেন। গত ৬ জুলাই (শনিবার) ভোরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায়। এরপর কে কোথায় হারিয়ে গেছে তা জানা যায়নি। এসময় মনির মাঝি ও মো; জুয়েল উল্টে যাওয়া ট্রলারের ভিতর থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু ট্রলার ধরে রাখেন। ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটি বার বার উল্টে যায়। তবুও তারা ট্রলার ধরে রাখার চেষ্টা করে। তারা চোখের সামনে দেখেছেন ট্রলারে ভিতরে আটকে পড়া কয়েক জনের করুন মৃত্যু। সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় একবার ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে , আবার ধরে। তবে এই সময় প্লাস্টিকের বেশ কয়েকটি পানির বোতল ড্রামের সাথে বেঁধে ফেলে। দুয়েকটি বোতলের পানি রেখে অন্য সব বোতলের পানি ফেলে দেয়। দুইদিন পর্যন্ত একটু একটু করে বোতলের পানি খেতে পেরেছেন। এভাবে তারা ৩ দিন পর্যন্ত ট্রলার ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন।

পরে উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলার থেকে ছিটকে দূরে চলে যায় দুইজন। ট্রলারে আর ফিরতে পারেননি। এর পর তারা সাগরে ভেসে থাকার চেষ্টা করে। একসময় সাগরের তীরের পৌছলে কক্সবাজারের স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে এসে তাদের ৬ জন জেলের মৃতদেহ পাওয়ার খবর পাই। তারা জানান, ট্রলারে ফয়জুল্লাহ, জিয়াদ, সেলিম মিস্ত্রি, বেলায়েত, তৌসিফ, জাহাঙ্গীর, মাসুদ, ওলিউল্লাহসহ তারা ১৭ জন ছিলেন।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::