সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

উখিয়ায় ‘গুম’ হওয়া নারী তিন মাস পর চট্টগ্রামে জীবিত উদ্ধার!

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০১৮ ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: জুলাই ১৮, ২০১৮ ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের উখিয়ায় কথিত ‘গুম’ হওয়া মরজিনা আকতারকে (২৪) প্রায় তিন মাস পর চট্টগ্রাম থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কক্সবাজারের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)। ওই নারী চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রুবি কলোনীর কাছে একটি ভাড়া বাসায় এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১৬ জুলাই দিবাগত রাত ১১ টার দিকে কক্সবাজার পিবিআই এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মরজিনার বাড়ি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজীর পাড়া গ্রামে। তার স্বামীর নাম মোহাম্মদ আলম।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে পিবিআই কক্সবাজার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় পিবিআই কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক (এডমিন) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজীর পাড়া গ্রামের মো. ইসহাকের স্ত্রী রাশেদা বেগম গত ৮ মে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী অভিযোগ করেন, গত ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর একই গ্রামের আপন জেঠাত ভাই মোহাম্মদ আলমের সাথে তার কন্যা মরজিনা আকতারের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রায় মরজিনাকে নির্যাতন করে আসছিল। গত ২৪ এপ্রিল ব্যবসার কথা বলে মোহাম্মদ আলম শাশুড়ি রাশেদার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য মরজিনাকে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে মোহাম্মদ আলম ও তার ভাই ক্ষিপ্ত হয়ে মরজিনাকে অপহরণ পূর্বক হত্যা করে লাশ গুম করে। নারী ও শিশু নির্যান দম ট্রাইব্যুনাল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়। পিবিআই মামলার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে বশ্বিস্ত সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই মামলার ভিকটিমে চট্টগ্রামের অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়।’

মেজবাহ উদ্দিন আরও বলেন, ‘তদন্তে জানা গেছে, মরজিনা শশুর বাড়িতে প্রায় সময় নির্যাতনের শিকার হতো। নির্যাতন থেকে বাঁচতে সে নিজ বাড়িতে চলে আসে। এবং সেখানে দুই শিশু সন্তানকে রেখে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। তার আগে ব্যবহার করা সিম কার্ডটিও ফেলে দেয়। চট্টগ্রামে গিয়ে সানভি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী নামে একটি প্রতিষ্ঠানে হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করে এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রুবি কলোনীর কাছে জনৈক শাহজাহানের একটি টিনশেড বাসা ভাড়া নেয়। ওই ভাড়া বাসায় জনৈক বান্ধবী লিপিকে নিয়ে গত তিন মাস যাবৎ বসবাস করে আসছিল।’ উদ্ধার করা মরজিনাকে সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পরিদর্শক (এডমিন) মেজবাহ উদ্দিন।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::