মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

উখিয়ার আলোচিত ৪ খুন এক বছরে ৩ তদন্ত কর্মকর্তা বদল

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ ২:১৮ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ ২:১৮ পূর্বাহ্ণ

উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং বৌদ্ধ সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকা বড়ুয়াপাড়ায় ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকান্ডের ১ বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর এই লোমহর্ষক ঘটনায় খুন হন একই পরিবার দুই শিশুসহ চারজন। কিন্তু বছর পার হলেও হত্যায় জড়িত কেউ সনাক্তই হয়নি। এ অবস্থায় জননিরাপত্তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। আঙ্গুল উঠছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দিকেও। গত এক বছরে তিন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সেদিনের হত্যাকান্ডের শিকার হয়ে নিহত হয়েছিলেন, প্রবাসী সৌরভ বড়ুয়া ওরফে রোকেন বড়ুয়ার মা সখী বালা বড়ুয়া (৬৫), রোকেন বড়ুয়ার স্ত্রী মিলা বড়ুয়া (২৫), রোকেন বড়ুয়া ও মিলা বড়ুয়ার শিশু পুত্র রবিন বড়ুয়া (৫) এবং রোকেন বড়ুয়ার ভাতিজি ও শিপু বড়ুয়ার সন্তান সনি বড়ুয়া (৬)। চারজনকেই জবাই করে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনার পরদিন মিলা বড়ুয়ার বাবা শশাঙ্ক বড়ুয়া বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রথম ধাপে তদন্তকারী কমর্মকর্তা হিসেবে মামলাটি তদন্ত করেছেন উখিয়া থানার এসআই মোহাম্মদ ফারুক হোসেন। দ্বিতীয় ধাপে উখিয়া থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার দায়িত্বপালন করার পর ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর মামলাটি কক্সবাজার জেলা পুলিশ থেকে পিবিআইয়ে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) হস্তান্তর করা হয়।

পিবিআই থেকে প্রথমে ইন্সপেক্টর পুলক বড়ুয়াকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত জুন মাসে আবারও তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে ইন্সপেক্টর কৈশনু মার্মাকে চতুর্থ ধাপে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত মামলাটির চার জন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও দীর্ঘ এক বছরেও আসামি সনাক্ত হয়নি।

মামলায় রোকেন বড়ুয়ার ভাই শিপু বড়ুয়ার স্ত্রী রিপু বড়ুয়া, রোকেন বড়ুয়ার ভায়রা ভাই অসীম বড়ুয়া এবং তাদের নিকটাত্মীয় উজ্জ্বল বড়ুয়াকে সন্দেহজনকভাবে আটক করা হলেও তিনজনই ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত আছেন।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, চার্জশিট না হওয়ায় মামলাটি বিচারের আওতায় আসছে না। চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা বার বার আদালতে সময়ের আবেদন করে কালক্ষেপণ করছে।
উখিয়া বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট দীপংকর বড়ুয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ এক বছরেও এ হত্যার প্রকৃত আসামিকে খুঁজে বের করতে না পারার বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের আর বেশি তৎপর হওয়া উচিত।
উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চৌধুরী বলেন, প্রথম দিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ বেশ তৎপর ছিলো। তারা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়ার পরও তদন্তে গতি ছিলো। এখন তদন্ত কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা পিবিআই এর ইন্সপেক্টর কৈশনু মার্মা বলেন, হত্যার কোনো ক্লু এখনও উদ্ধার করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ক্রিমিনালদের ডিএনএ ফ্রিজআপ করা আছে। ডিএনএগুলো পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে টেস্ট করা হচ্ছে। মামলার অনেক খানি অগ্রগতি হয়েছে। অচিরেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::