সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:১৯ অপরাহ্ন

ঈদগাঁও রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমিতিতে চরম অনিয়ম

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ৩০, ২০১৮ ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ৩০, ২০১৮ ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ

শেফাইল উদ্দিন,ঈদগাঁও:

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ।বছরের পর বছর এ অনিয়ম অব্যাহত থাকলেও কেউ এর বিরুদ্ধে অদৃশ্য কারণে মুখ খুলেনি। দেরিতে হলেও এ অনিয়মের বিরুদ্ধে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে জানা যায়।দুই দশক পূর্বে সারা দেশে গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থানকে চিহ্নিত করে কোটি টাকা খরচে সরকার দু’টি রাবার ড্যাম নির্মাণ করে।যার মধ্যে একটি হচ্ছে ঈদগাঁও রাবার ড্যাম।যা দেখতে দূর দুরান্ত থেকে লোকজন সবসময় ভীড জমায়। কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে সরকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পাশাপাশি তা পরিচালনায় কিছু নীতিমালাও বেধে দেন।নীতিমালায় উপকারভোগী সব কৃষক সদস্য হওয়ার সুযোগ থাকলেও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারমেন জাফর আলম শুরু থেকে কলা কৌশলে নামে মাত্র ৫০/৬০ জন কৃষককে যেনতেন ভাবে সদস্য দেখিয়ে পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো কুক্ষিগত করে বিগত দুই দশক পর্যন্ত নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি করে যাচ্ছে ।পানি সেচের বিনিময়ে এ দুই দশকে আয়কৃত কোটি কোটি টাকার কোন হিসাব নিকাশ নেই। এর অধীনে ৪ শ কৃষকেরা ১০ হাজার একর জমি থেকে একর পিছু ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫ শ টাকা আদায় করে আসছে । গত দুই দশকে আয়কৃত কোটি কোটি টাকার কোন হিসাব ও হদীস নেই।কিন্তু সংশ্লিষ্ট একাউন্টে দৃশ্যমান কোন টাকা নেই।অন্য দিকে বিগত ৫ বছর পূর্বে রামুর সোনাই ছড়িতে স্থাপিত রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটি একাউন্টে ২ কোটি টাকা জমা দে়খিয়ে সরকার থেকে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে।অথচ ঐ রাবার ড্যাম কমিটি একর পিছু ৮ শ টাকা করে নেয়। এছাড়া সাধারণ সম্পাদকের নতজানু কিছু নালা পরিচালক ও মেনেজার বিভিন্ন অজুহাত আরো অতিরিক্ত টাকা আদায় করে বলে সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ ।এসব অনিয়ম বিভিন্ন সময় সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে জানালেও তারা কানে তুলেনা। এক কথায় স্বৈরচারী কায়দায় চলছে এ কমিটি ।এ অবস্থায় বিগত ২০১২ সালে সমিতিটি সমবায় এর অধীনে যায়। সেই কমিটিতেও একই ব্যক্তি সাধারণ সম্পাদক পদ হাতিয়ে নিয়ে কোন প্রকার হিসাব নিকাশবিহীন এ সমিতি চলছে তা নিয়ে কৃষকদের সন্দেহের তীর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার দিকেও তাক হচ্ছে। এ অবস্থায় উপরোক্ত অভিযোগসহ বিভিন্ন ইস্যু উপস্থাপন করে বিগত ১৪ মার্চ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন শতশত কৃষক।অভিযোগ পরবর্তী নির্বাহী কর্মকর্তা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন ।এদিকে সাধারণ কৃষকদের দাবি তাদের ঘাম ঝরানো কোটি কোটি টাকার হিসাব উদ্ধার ও বর্তমান স্বৈরাচারী পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত করে কার্যকর একটি কমিটি গঠন করা হউক।এদিকে অভিযোগ কারীদের দাবি তারা রাবার ড্যাম নীতিমালাটি সরবরাহ করার জন্য উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবরে আবেদনকরলেও তিনি গড়িমসি করে দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ না করে সরকারের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। এদিকে অভিযোগ উঠা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবুল মকছুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, তার নিকট আবেদন করার পর তার সাথে আর সাক্ষাৎ করেননি। উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নোমান হোসেন প্রিন্স বলেন,রবার ডেম পরিচালনায় অনিয়মের একটি অভিযোগ তিনি পেয়েছেন।এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::