বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫৫ অপরাহ্ন

ঈদগাঁও বাজারের রাজস্ব লুটপাট !

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ১৯, ২০১৮ ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ১৯, ২০১৮ ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

উচ্চাদালতে রীট দায়ের করে স্হগিত রাখা হয়েছে কক্সবাজার সদরের বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের স্বাভাবিক ইজারা। এ সুযোগে খাস কালেকশানের নামে প্রতিমাসে লুটে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ভূমি প্রশাসনের দূর্ণীতিবাজ একটি মহল ও ইজারাদারদের যৌথ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ লুটপাট চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এতে সরকার হারাচ্ছে মূল্যবান রাজস্ব। এমনটাই উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।
প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, জেলার অন্যতম ব্যস্ত ও বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্র ঈদগাঁও বাজার। কক্সবাজার সদর উপজেলার ৬ ইউনিয়ন, রামু উপজেলার ঈদগড় ও রশিদনগর ইউনিয়ন এবং পার্বত্য বান্দরবান জেলার বাইশারীসহ বিশাল এলাকার জনগোষ্ঠী প্রাত্যহিক কেনাকাটা ও সওদাপাতির জন্য ঈদগাঁও বাজারের উপর নির্ভরশীল। জনসমাগমপূর্ন ও জমজমাট এ বাজার থেকে প্রতিবছর কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়। তাই লাভজনক এ বাজার ইজারা নেয়ার জন্য গড়ে উঠেছে একাধিক ইজারাদার সিন্ডিকেট। এরকম একটি ইজারাদার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিয়ন ছৈয়দ নূর।
সূত্রে প্রকাশ, বাজারের নিয়ন্ত্রন হাতে রাখতে গত বছর ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দুর্নীতিবাজ পিয়ন ছৈয়দ নূর ও ইজারাদারের যোগসাজসে উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করে স্বাভাবিক নিলাম স্থগিত রাখা হয়েছে। এভাবে উচ্চ আদালতের আদেশের ওই বিষয়টি নিস্পত্তি না করে প্রতি মাসে খাস কালেকশানের নামে গোপনে বাজার ইজারা দিয়ে লুটপাটের আশ্রয় নিচ্ছেন ভূমি কার্যালয়ের পিয়ন ছৈয়দ নূরের নেতৃত্বাধীন ইজারাদার সিন্ডিকেট। গেল বৈশাখ মাসেই সাড়ে ৮ লাখ টাকায় বাজার ইজারা দেয়া হলেও সরকারি কোষাগারে শুধুমাত্র তিন লাখ টাকা জমা পড়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে পিয়ন ছৈয়দ নূর ও তার নেতৃত্বাধীন ইজারাদার সিন্ডিকেটের সদস্যদের। বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায়, গোপনে মেরে দেয়া ওই টাকা দ্রুত জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানা গেছে। আর এর মধ্যেই চলতি জৈষ্ঠ্য মাসের জন্য ওই বাজার অতি গোপনে ইজারা দেয়া হয়েছে ১৭ লাখ টাকায়। গত ১৪ মে সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে এ ইজারা নিলাম সম্পন্ন হয়। পরদিন অর্থাৎ ১৫ মে থেকে বাজারের ইজারাদার রমজানুল আলম ঈদগাও বাজার থেকে টাকা উত্তোলন শুরু করেন। তবে ইজারাদার রমজানুল আলম ও ভূমি প্রশাসনের প্রায় সকলেই বাজার ইজারার কথা রহস্যজনক কারণে অস্বীকার করছেন। বাজার ইজারার বিষয়ে জানতে চাইলে রমজানুল আলম বলেন, ‘ইজারার বিষয়ে আমি জানিনা। তবে আমি আজ ১৫ মে থেকে বাজারের টাকা উত্তোলনে ভূমি অফিসকে সহযোগিতা করছি।’
গেল বৈশাখ মাসের ইজারাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গেল বৈশাখ মাসে আমি সাড়ে ৮ লাখ টাকায় বাজার ইজারা নিয়েছিলাম। পরে জেনেছি সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে মাত্র ৩ লাখ টাকা। গত ১৪ মে জৈষ্ঠ্য মাসের জন্য আবারও নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় দ্বিতীয় নিলাম ডাককারি ছিলাম। কিন্তু রমজান ১৭ লাখ টাকায় বাজারটি এক মাসের জন্য নিলাম নেয়।’
নিলামে উপস্থিত ব্যবসায়ি তারেক বিন মোখতার বলেন, ‘নিলামে রমজান ১৭ লাখ, রফিক সাড়ে ১৫ লাখ ও রাজ্জাক সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ঘোষনা করে। সেখানে সর্বোচ্চ দরদাতা রমজানকে বাজার ইজারা দেয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাজারের দর বেশি হওয়ায় আমরা আর দর না বাড়িয়ে চলে আসি।’
উচ্চ আদালতে রিটকারি সিন্ডিকেটের এক ইজারাদার বলেন, ‘জৈষ্ঠ্য মাসের বাজার ইজারার নিলামে আমার লোক উপস্থিত ছিল। কিন্তু যে দর উঠেছে তাতে লোকসান হওয়ার ভয়ে আমরা আর দর বাড়াইনি।’ রিটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করি। কিন্তু উচ্চ আদালত আমাদের আবেদনটি নিষ্পত্তি করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ৩০ দিনের সময় দিলেও তা অদ্যবধি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না।’
বাজার ইজারার বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ঈদগাও বাজারটি নিলাম নয়, খাস কালেকশানে চলছে। এটি স্থানীয় তহশিলদারই দেখছেন। তিনিই এ বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন।’ সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে ইজারা নিলাম হওয়া এবং গেল মাসে তিন লাখ টাকা রাজস্ব জমা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার অফিসে নিলাম হয়নি। তবে অনেকেই ইজারা নিতে দরকষাকষির জন্য আমার অফিসে এসেছেন। আর গেল মাসে সাড়ে ৮ লাখ টাকাই সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। কম দেয়ার কোন সুযোগ নেই।’
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘ঈদগাও বাজারের বিষয়টি আমি দেখছিনা। এটি এসি ল্যান্ড ও তহশিলদার দেখছেন, তারাই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই।’ উচ্চ আদালতে রিটকারির দরখাস্ত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি আমরা দ্রুত নিষ্পত্তি করবো। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ করছি। এছাড়া এসব নিষ্পত্তি করে দ্রুত বাজার নিলামের ব্যবস্থা করবো।’
কর্মকর্তারস এভাবে একে অন্যের দোহাই দিয়ে লুটপাটে সহায়তা করছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বাজারটি থেকে প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। কিন্তু ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিয়ন ছৈয়দ নূরের নেতৃত্বাধীন ইজারাদার সিন্ডিকেট বিভিন্ন তালবাহানা করে বাজারের ইজারা স্হগিত রেখেছে। আর এ সুযোগে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটে নেয়া হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ ঈদগাঁও বাজারে স্বাভাবিক নিলাম প্রক্রিয়া প্রচলন ও রাজস্ব আয় স্বাভাবিক করে লুটপাটের হাত থেকে বাঁচাতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::