তারিখ: সোমবার, ১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share:

এস,এম,জুয়েল,আলীকদম ::
পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় রবিবার সকালে শান্তি র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‌্যালীতে লামা ও আলীকদম উপজেলার সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, হেডম্যান-কার্বারী, শিক্ষক,সাংবাদিক, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় লোকজন অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালীর নেতৃত্ব দেন আলীকদম জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল সাইফ শামীম। সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে র‌্যালীটি শুরু হয়ে উপজেলা শহর প্রদক্ষিণ শেষে স্মৃতিসৌধের সামনে আলোচনা সভা ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জোন কমা-ার লেঃ কর্ণেল সাইফ শামী। আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজিমুল হায়দার, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-এ-জান্নাত রুমি, লামা সার্কেলের এএসপি আবু ছালাম চৌধুরী, লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ইসমাঈল, আলীকদম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাইনথপ ¤্রাে, লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা, আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিক উল্লাহ্, ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন ও লামা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান। সহকারি শিক্ষক মিসেস পাইনুসাং মার্মার স ালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মাঝে
উপস্থিত ছিলেন লামা পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম, লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ,
১৭ আনসার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক প্রমুখ। এছাড়াও সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমা-ার লে. কর্ণেল সাইফ শামীম, পিএসসি বলেন, শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পার্বত্যা লের শান্তি-সম্প্রীতি ও উন্নয়ন হলেও এখনো দুর্গম পাহাড়ের কিছু মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়নি। এ অবস্থার উত্তোরণে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। শান্তিচুক্তির পর এতদা লের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ অবকাঠামোর প্রভুত উন্নতি সাধিত হয়েছে। অন্যান্য বক্তারা বলেন, ১৯৭০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১০-১৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক ছিল, বর্তমানের হিসাব অনুযায়ী এ অ লে ১৫শ’ কিলোমিটরের বেশি সড়ক
হয়েছে। আরো সড়কপথ তৈরি হবে। প্রচুর ব্রিজ, কালভার্টসহ পর্যটন বিকাশ ঘটেছে। বক্তারা আরো বলেন, বেসরকারি ও সরকারি প্রশাসন সেনা বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। পার্বত্য এলাকায় সেনা বাহিনী শিক্ষা, রাস্তা-ঘাট,
সামাজিক উন্নয়নসহ সকলক্ষেত্রে কাজ করছে। সেনাবাহিনী এসব কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। কিছু কুচক্রি মহল শান্তিতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। দিবসের কর্মসূচী হিসেবে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ,
বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, জোন সদরে প্রীতিভোজ, বিকাল তিনটায় প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ও সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::