তারিখ: রবিবার, ২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

পেকুয়া প্রতিনিধি::

জাহাঙ্গীর আলম পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

তিন সন্তানের জনক। বড় মেয়ে চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট মেডিকেল আর মেঝ সন্তান চট্টগ্রামের একটি কলেজে এইচএসসিতে অধ্যায়নরত। সবচেয়ে ছোট আফিফ পিতা ও মাতার সাথে পেকুয়া চৌমহুনীর নিজস্ব বাসভবনে থাকেন।

তার বয়স ৮এর কাছাকাছি। সেই ৩বছর বয়স থেকে বাবার সাথে থাকা, খাওয়া ও মিছিল মিটিংয়ের অংশ গ্রহণ করা তার নিত্যব্যাপার। মিটিং মিছিলে বাবার মাইক কেড়ে নিয়ে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নাম বলাও নিত্যব্যাপার।

এটা করতে গিয়ে মুজিব আদর্শের সৈনিকদের ভালাবাসাও আদায় করেছেন তিনি। বাবা সাথে থাকলে মা কোথায় আর কোথায় থাকে তার কোন টেনশন নাই।

যদিও বা বাবা কোন একদিন তাকে ঘুমে রেখে কোন সামাজিক অনুষ্টান, রাজনৈতিক সভা সমাবেশে যোগদান করে সেদিন বাবার বাড়িতে প্রবেশ করা অনেক কষ্টের অনেক দুঃখের। কিন্তু বাবার এনিয়ে দুঃখ আর কষ্ট নাই। কারণ ছেলেটি বাবাকে ছাড়া কিছুই বুঝেনা।

বাবা মাঝে মধ্যে লেখাপড়ার জন্য হালকা রাগ দেখালে সে বলে আমি লেখাপড়াও করব সাথে সাথে বঙ্গবন্ধুর মত হব। যে ছেলে বাবাকে ছেড়ে একটা মিনিটও থাকেনি সেই ছেলে দীর্ঘ ৩ মাসের কাছাকাছি বাবাকে কাছে না পাওয়ায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেছেন। বার বার বলছেন বাবা কবে আসবেন, কখন তাকে কাছে পাব। বাবাকে নিয়ে কি ঈদ করতে পারবোনা। মা রোমানা আকতার, চাঁচা মোঃ আজম ও ওসমাণ সরওয়ার বাপ্পির কাছ থেকে প্রতিদিন এরকম প্রশ্নে জর্জরিত করে থাকে। তাদের কাছে কোন জবাব নাই, কি বলে শান্তনা দিবে সকলের ছোট প্রিয় আফিফকে।

আফিফের কাছে বাবা কোথায় আছে জানতে চাইলে বলে, আমার বাবাকে এনে দাও। বাবকে ছাড়া আমি থাকতে পারব না।

মা রোমানা আকতার বলেন, বড় দুই সন্তান চট্টগ্রামেই থাকে। কিন্তু ছোট সন্তান আফিফ সবসময় পিতার সাথে থাকতো। পিতাকে অনেকদিন কাছে না পাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বারবার বলেন, তার পিতা কবে আসবে। বাহানা ধরেছে এ ঈদে তার পিতাকে এনে দিতে হবে। কিন্তু তার প্রশ্নের কোন জবাব আমি দিতে পারিনা।

চৌমহুনীর এ নিজস্ব ভবন থেকে র্যাবের দাবী অনুযায়ী জাহাঙ্গীর আলমসহ অপর তিন ভাইকে অস্ত্রসহ আটক করেছিল। সেই সময় সংবাদ সম্মেলন করে অস্ত্র দিয়ে তাকে ফাঁসানো অভিযোগ করেছিল পরিবারের সদস্যরা। অথচ তারা যুবলীগ আর ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। সেই আটকের প্রতিবাদে হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছিল। হাজার হাজার জনতা, স্থানীয় ও জেলা আ’লীগ নেতার উপস্থিতিতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়।

এ মামলা চলমান অবস্থায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচন পরবর্তি সাধারণ জনগণের ব্যাপক ভালবাসায় অভিভূত হন তিনি।
শপথ পরবর্তি দুইদিন পরিষদের কার্যক্রম চালান। তার একদিন পর র্যাব কর্তৃক সেই মামলার রায়ের শুনানী ছিল।

মামলার শুনানীতে আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে উপস্থিত হন। মামলার রায়ে জাহাঙ্গীর আলমের ১৪ বছর অপর তিন ভাই মামলা থেকে অব্যাহতি পান। বর্তমানে মামলাটির সাঁজা স্থগিতাদেশ ও জামিন আদেশের জন্য উচ্চ আদালতে শুনানী পর তাকে একবার জামিন মঞ্জুর করলেও চেম্বার জজ জামিন আদেশ আটকে দেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::